আমাদের ইতিহাস

এখানে রয়েছে ইসার গৌরবময় ইতিহাস


ইব্রাহিমপুর ঈশ্বর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়। ইংরেজী ১৯২৩ সালে মানিকগঞ্জ জেলার (তৎকালীন মহকুমা) হরিরামপুর থানার অন্তর্গত আজিম নগর গ্রামের জমিদার ভাতৃত্রয় বাবু পূর্ণ চন্দ্র চক্রবর্তী, বাবু যোগেশ চন্দ্র চক্রবর্তী ও বাবু যতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে তাদের স্বর্গীয় পিতা ঈশ্বর চন্দ্র চক্রবর্তীর নাম অনুসারে যে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন সে বিদ্যালয়টিই আজ ইব্রাহিমপুর ঈশ্বর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় নামে সুপরিচিত। তৎকালীন সময়ে অত্র এলাকায় কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত না হলে অত্র এলাকায় বিরাট জনগোষ্ঠির সন্তানদের লেখাপড়া করার কোন সুযোগই সৃষ্টি হতো না। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণে আমরা পেয়েছি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী, ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ, বিচারপতি, শিল্পপতি, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী। এক কথায় শিক্ষার আলোয় আলোকিত মানুষ। অত্র এলাকার বিপুল জনগোষ্ঠির মাঝে শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির জন্য যারা এই মহতি উদ্যোগ গ্রহণ করে ইশ্বরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়টি স্থাপন করেছিলেন তাঁদের প্রতি আমরা জানাচ্ছি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা।

 

১৯২৩ সাল থেকে আজ পর্যন্ত যারা এই বিদ্যালয়ে লেখা-পড়ার সুযোগ পেয়েছেন তারা সকলেই এই বিদ্যালয়ের ছাত্র। তাদের মধ্যে যারা বর্তমানে লেখাপড়া করছেন তারা বর্তমান ছাত্র, আর যারা বিদ্যালয়ের অধ্যায় শেষ করে এসেছেন তারা প্রাক্তন ছাত্র। আজ যারা ছাত্র হিসেবে আছেন আগামী দিনে তারাই হবেন প্রাক্তন ছাত্র।

 

প্রাক্তন হলেই বিদ্যালয়ের প্রতি, বিদ্যালয়ের ছাত্রদের প্রতি, এলাকার প্রতি দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় এমনটি মনে করার কোন সুযোগ নেই। বিদ্যালয়ের জীবন শেষ করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই দায়িত্ব আরও বহুগুণ বেড়ে যায় বলেই আমাদের বিশ্বাস। এই দায়িত্ব পালন করার জন্য প্রয়োজন প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের সম্মিলিত প্রয়াস। সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য প্রয়োজন সংগঠনের।

 

এই প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেই ১৯৮৪ সালে প্রাক্তন ছাত্রদের নিয়ে একটি সংগঠন প্রথম আত্মপ্রকাশ করে তার নাম অণীকযে সংগঠনটি স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ করতে বিরাট ভূমিকা পালন করে আসছিল। এছাড়াও সংগঠনটি বিভিন্ন সমাজ সেবামূলক কাজে তাদের অবদানের জন্য বেশ প্রশংসা অর্জন করে। এরপর আরও বেশ কয়েকটি প্রাক্তন ছাত্র সংগঠন জন্ম লাভ করে, যেমন: প্রগতি ছাত্র সংঘ, লাল পান্থ, স্পন্দন'৭৭ যারা মূলত বিভিন্ন ব্যাচের প্রতিনিধিত্ব করে। ইব্রাহিমপুর ঈশ্বর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের স্বর্ণ যুগের উজ্জ্বল নক্ষত্র, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক জনাব আবদুল মজিদ প্রায়শই বলতেন বিদ্যালয়ের সমস্ত প্রাক্তন ছাত্রকে অণীকের পতাকাতলে একত্রিত করে একটি বিশাল সংগঠন করার কথা। অণীকের গঠনতন্ত্র এবং সংগঠনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় সেটা সম্ভব হয়নি।

 

ইব্রাহিমপুর ঈশ্বরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের বিশাল প্রাক্তন ছাত্র সমাজকে একত্রিত করে একটা সংগঠন করার তাগিদ অনেকের মধ্যেই অনুভূত হয়ে আসছিল। সত্যিকার অর্থে এটা ইব্রাহিমপুর ঈশ্বরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সকল প্রাক্তন ছাত্রদের দাবীতে রূপান্তরিত হয়। ১ জানুয়ারি ২০১০ স্পন্দন'৭৭ ব্যাচের অনুষ্ঠানে এসে বিষয়টি আরও গভীরভাবে অনুভূত হয়। ঐ দিনই ঢাকাস্থ রমনা বটমূলে সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক জনাব আবদুল মজিদ-এর সভাপতিত্বে একটি সার্বজনীন প্রাক্তন ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যা ছিল একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।

 

উক্ত সিদ্ধান্তের আলোকে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক জনাব আবদুল মজিদকে আহ্বায়ক এবং ডাঃ এইচ আই লুৎফর রহমান খানকে সদস্য সচিব করে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আহ্বায়ক কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে সংগঠনের নামকরণ করা হয় "ইব্রাহিমপুর স্কুল অ্যালামনাই এসোসিয়েশন" যা সংক্ষেপে "ইসাবা "ISAA"